এস এম তাজাম্মুল,মণিরামপুরঃ সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মুফতী মোহাম্মদ মাওলানা ওয়াক্কাসের আমলে খনন কৃত গজশ্রী নদের অববাহিকায় পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সংস্কার করা খাল এখন মৃত প্রায় নালাই পরিনত হয়েছে। দীর্ঘকাল অবহেলা, অব্যবস্থাপনায় পানি প্রবাহে পলি জমে ও খালের দু’পার্শের জমির মালিকদের জায়গা দখলে সংকুচিত মরা খালের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবং কয়েকজন ব্যাক্তির মাছের ঘেরে একের পর এক ভেড়ি দেওয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী মণিরামপুর পৌরসভার বিজয়রামপুর ও পার্শবর্তী কাশিপুর গ্রামের কৃষকেরা।
চলতি এ প্রতিবেদনে কৃষি নির্ভর অর্থনীতির চালিকাশক্তি কৃষকের আবাদে মণিরামপুর পৌরসভার কয়েক একর জমিতে এ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে কয়েকজন মাছের ঘেরের মালিকের ব্যাক্তি স্বার্থের কারনে। সরেজমিনের তথ্য বলছে, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর তত্বাবধানে খনন কৃত গজশ্রী নদের অববাহিকার প্রধান দুইটি অভিমুখে পৌরসভায় কৃষকের দুই তৃতীংশের এলাকা বিজয়রামপুর ও উপজেলার কাশিপুর গ্রামের ৩টি মাঠের পানি প্রবাহের দুটি পথ বন্ধ করে রেখেছে ঘেরের মালিকেরা। অপর মাঠের পানি খাল দিয়ে প্রবাহিত হলেও পার্শ্ববর্তী একাধিক ঘেরের মালিক ঘের খনন করে পাড়ে মাটি দেওয়ায় খাল এখন নালায় পরিনত হয়েছে।
চলতি আমন মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে উল্লেখিত কাশিপুর ও বিজয়রামপুর গ্রামের ৩টি মাঠে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ঘের মালিকদের করা বাধাগ্রস্থের কারনে বর্তমানে আমন চাষের ঝুঁকিতে আছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
বাস্তবিক চিত্রে আছে, কয়েকটি ঘের মালিকের মধ্য যত্রতত্র ঘের খননে পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্ত করেছে তার মধ্য স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম তার ঘেরের মাটি পানির অপসারনের পথে মাটি ফেলায় ড্রেনটি এখন নাব্যতা হারিয়ে বসেছে। তাছাড়াও ঐ ঘেরে যত্রতত্র বৈদ্যুতিক ব্যাবস্থা ও ভূগর্ভস্থ্য পানি উত্তলোন করে ভরাট করাতে বৃষ্টির পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে আসপাশের এলাকা। এ বিষয়ে শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, আমি লোক দিয়ে আমার ঘেরের এরিয়া টুকু পরিষ্কার করে দিবো। স্থানীয় ভাবে বিজয়রামপুর গ্রামের বিএনপি নেতা মোঃ ফারুখ হোসেন চলতি এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে কৃষকদের এ ভোগান্তি লাগবে দ্রুত একটা ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছে।
মনিরামপুরের ভৌগলিক দিক দিয়ে পৌরসভার শেষ ও শ্যামকুড় ইউনিয়নের মধ্য গজশ্রী নদের সংযোগ থাকায় উক্ত জলাবদ্ধতার বিষয়ে সমাধানে যেয়েও এখনো পর্যন্ত কোন সুরাহা পায়নি ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে কথা হলে মণিরামপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিন কৃষকদের দুঃখ লাঘবে অতি সত্বর ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক মোজাম্মেল হক জানান, প্রতিবছর আমাদের মাঠে পানি আটকে থাকে। প্রতিবছর আমরা বোরো-আমন চাষে ক্ষতিগ্রস্থ হয়,মাঠে চাষের জমিতে পানি জমে থাকায় আবাদ নষ্ট হওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপাকে থাকি। আমাদের দাবী, বিগত দিনের ন্যায় আবারও খালটি সংস্কার করে আমাদের চাষাবাদ করতে সহযোগীতা করা হোক।
ডেইলি কলমকথার সকল নিউজ সবার আগে পেতে গুগল নিউজ ফিড ফলো করুন
দৈনিক কলম কথা সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।